আবারও কি বন্ধ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

আবারও কি বন্ধ হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

ক’রোনাভা’ইরাস শ’না’ক্তের পর থেকে অসংখ্যবার ভা’ইরা’সটি তার রূপ ব’দলেছে। এ যাবৎ ক’রো’নার ডে’ল্টা ধরণ সবচেয়ে বেশি ভ’য়ং’কর হিসেবে পরিচিত ছিল। এর পরেই আসে ক’রো’নার আরেক ধরণ ও’মিক্র’ন। সম্প্রতি এই ধরনটিও ভ’য়ং’কর হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন গবেষকরা। ও’মি’ক্রনে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী লা’ফিয়ে লা’ফিয়ে বাড়ছে ক’রোনা আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। গত তিনমাসে দেশে ক’রোনার সং’ক্রমণ কম দেখা গেলেও, তা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ক’রোনা শুরুর পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খোলা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখন আবারও বাড়তে শুরু করেছে ক’রোনা, ফলে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের শ’ঙ্কা তৈরি হয়েছে।গত ১০ ডিসেম্বর দেশে প্রথম ক’রোনার নতুন ভ্যা’রিয়েন্ট ও’মিক্র’ন ধরা পড়ে। জার্মান একটি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ও’মিক্র’ন আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা ২০ বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে প্রতিনিয়ত সং’ক্র’মণ বাড়ার পেছনে ডে’ল্টা ও ও’মিক্র’ন দুটি ধরনেরই প্রভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত এক মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, নির্বাচনসহ জ’নস’মাগমস্থ’ল বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বা’স্থ্য বি’শেষজ্ঞ ও রো’গত’ত্ত্ববিদদের মতে, কোনো দেশে ক’রোনা সং’ক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে সং’ক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করা হয়। দেশে প্রায় সাড়ে তিনমাস আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর আ’ক্রা’ন্তের হার ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ ছিল। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সং’ক্র’মণের হার হ্রা’স পেয়ে দুই শতাংশের নিচে নেমে আসে। তবে গত ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে সং’ক্র’মণের হার ধী’রে ধী’রে বাড়তে থাকে। নতুন বছর শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে সং’ক্র’মণের হা’র দ্বি’গুণের বেশি হয়।

ক’রোনা সং’ক্রমণ রো’ধে জ’নস্বা’স্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একমাসের জন্য বন্ধ রাখা যেতে পারে। সমাজে যেসব বিষয়ে জ’নস’মাগম হয়ে থাকে, সেসব কিছুই আপাতত কমপক্ষে এক মাসের জন্য স্থ’গিত করে দেওয়া উচিত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের গুঞ্জন উঠলেও স্বা’স্থ্যম’ন্ত্রী জা’হিদ মালেক জানিয়েছেন, এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব’ন্ধ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ও’মিক্র’ন রোধে জাতীয় কমিটির সুপারিশ মা’না হবে।

এদিকে, শি’ক্ষাম’ন্ত্রী দীপু মনি সম্প্রতি করোনার নতুন ধরন অ’মিক্র’নের কারণে প্রয়োজনে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ব’ন্ধ করে দেওয়া হতে পারে জানালেও আজ শনিবার (৮ জানুয়ারি) বলেছেন ভিন্ন কথা।

ও’মিক্র’ন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের ভাবনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আজ (শনিবার) আমাদের মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আছে। আগামীকাল (রোববার) কো’ভিড-১৯ সং’ক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল, মার্চে গিয়ে সং’ক্র’মণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়াতেই বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে। কিন্তু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। বরং আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন ক’রো’নার টি’কা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। সেটিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হয়তো একটু অ’সুবিধা হতে পারে, যারা ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী, তাদের জন্য। সেসব বিষয় নিয়েও আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

দীপু মনি বলেন, দেড় বছরের বন্ধে সবারই ঘা’টতি হয়েছে। সেটি পূরণের জন্য ব্য’বস্থা করা হচ্ছে। ঘা’টতি পূরণে সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে, বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করানো। কিন্তু অনেকেই যেভাবে স্বা’স্থ্যবি’ধি তোয়াক্কা না করে চলছেন, তাতে ক’রো’নার সং’ক্র’মণ বাড়লে শিক্ষার ক্ষ”তিই সবচেয়ে বেশি হবে। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রত্যেকে যেন স্বা’স্থ্যবি’ধি মেনে চলি। এ জন্য এখন সবাইকে সজাগ ও স’চেতন থাকতে হবে। কারণ, আবার ক’রো’নার সং’ক্র’মণ বাড়ছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) এক ডো’জ টি’কা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা যাবে না বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ও’মিক্র’ন সং’ক্র’মণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্র’ধানম’ন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্র’ধানম’ন্ত্রী নানা নির্দেশনাও দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, লঞ্চ ও ট্রেনে উঠতে গেলেও ভ্যা’ক’সিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে স’রকা’র। এ ছাড়া বাড়ির বাইরে মাস্ক ছাড়া চলাচল বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, ক’রো’নার দুই ডো’জ ভ্যা’ক’সিন না নিলে ট্রেন ও উড়োজাহাজে চলাচল করা যাবে না। সেই সঙ্গে রেস্তোরাঁ, শপিংমলেও প্রবেশ করা যাবে না। এ ছাড়া সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সমাগম সীমিত রাখতে হবে বলেও জানান তিনি।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সং’ক্র’মণ নিয়ন্ত্রণে গ’ণপ’রিবহনে অর্ধেক সিট ফাঁকা রেখে যাত্রী চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ভাড়া বাড়ানো যাবে না। এটি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বলে দেওয়া হবে।

বু’স্টার ডো’জ নিয়ে তিনি বলেন, বুস্টার ডোজ দেওয়ার বয়স সীমা ৬০ থেকে কমানো হবে। ফ্রন্টলাইনাররা সবাই শিগগিরই বু’স্টার ডো’জ পাবেন।

কা’রিগ’রি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর করা হবে সেটি দু-এক দিনেই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published.